আমরণ অনশন শুরু করেছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা

আমরণ অনশন শুরু করেছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাপুনম শাহরীয়ার ঋতু, স্টাফ রিপোর্টার: টানা পাঁচ দিন অবস্থান কর্মসূচি শেষে আজ রোববার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তাঁরা।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি চলছে।

বেলা ১১টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে দেখা যায়, শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রেসক্লাবের সামনের ফুটপাত ও রাস্তার কিছুটা অংশজুড়ে বসে অনশন পালন করছেন। অনেকের হাতে বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড রয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের নেতা গোলাম মাহমুদুন্নবী প্রথম আলোকে বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। মৃত্যু হলেও হাসিমুখে বরণ করে নেব। কারণ, এভাবে বাঁচার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’ এর আগে গতকাল তিনি বলেছিলেন, তাঁদের একটাই দাবি—সেটা হলো সরকারস্বীকৃত ৫ হাজার ২৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করতে হবে। আজ অনশনে অংশ নিয়েছেন বরিশালের বানারী পাড়ার সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন ইসলামিয়া কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক তপন চন্দ্র ব্যাপারী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত। আর তিনি শিক্ষকতা করছেন ২০০৪ সাল থেকে। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সরকার থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। সংসার কীভাবে চালাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা তপন বলেন, ‘চলি তো না চলার মতো।’ দেশের সরকারস্বীকৃত সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন এসব শিক্ষক। অনশনে উপস্থিত কম-বেশি সবার বক্তব্যই এ ধরনের। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে এ কর্মসূচি চলছে। গত শুক্রবার ফেডারেশনের নেতারা বৈঠক করে আজ থেকে অনশন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেন। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অংশ দেওয়া হয়, সেগুলোকে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলা হয়। আর যেগুলো এমপিওভুক্ত নয়, সেগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না। এগুলোকে সংক্ষেপে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলা হয়। বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী ৪ লাখের বেশি। এর বাইরে স্বীকৃতি পেলেও নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান আছে ৫ হাজার ২৪২টি। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৭৫ থেকে ৮০ হাজার। সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

৩১/১২/০১৭ ইং

Leave a Reply