মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া উচিত

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে দেশটির সরকার। এজন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া উচিতসোমবার সকালে কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নুরুন্নাহার ওসমান ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল।

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ‘মিয়ারমার সরকার নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা করছে। ঘুমন্ত মানুষের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। নারীদের তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। বাড়ি অগ্নিসংযোগ করে লুটপাট চালাচ্ছে। এই বর্বরতা সভ্য ইতিহাসে ব্যতিক্রম। পৃথিবীর কোনো দেশ, জাতি তা দেখেনি।’

রিয়াজুল হক বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে অনেক রোহিঙ্গার সাথে কথা বলেছি। তারা যেভাবে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন তা অত্যন্ত ভয়াবহ। তাদের কথা থেকে অনুমান করে মিয়ানমারের এই নির্যাতনকে গণহত্যার শামিল বলে অভিহিত করছি।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের এই নির্যাতনের কথা জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লিগসহ আন্তর্জাতিক মহলে তোলে ধরেছে বাংলাদেশ। তাদেরকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চিঠিও দেয়া হয়েছে। এতে বিশ্ব বিবেক নাড়া দিয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মহল থেকে মিয়নমারের ওপর চাপ প্রয়োগ হচ্ছে। তারপরও তারা নির্যাতন চালাচ্ছে। তাই বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার চিন্তা করছে।’

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান জানান, নতুনভাবে তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। সব মিলে এখন পর্যন্ত ৭/৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। আসার অপেক্ষায় আরও অনেক রোহিঙ্গা। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ মানবিক সহযোগিতা করছে।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তিন দফা সুপারিশ তুলে ধরেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। সেই দফাগুলো হলো কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ প্রয়োগ, রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা যারা করেছে তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করা এবং ঢুকে পড়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন।